হারানো লাগেজ ঘিরে কসবায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার একটি লাগেজ হারিয়ে গেছে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শাহপুর গ্রামের পক্ষ থেকে আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত কসবা হজ কাফেলায় যান।

সেখানে হজ কাফেলা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়ভার সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর নিজের এবং এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের করণীয় কিছু নেই। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই দিনই দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরে শনিবার বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এদিন উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কসবা পৌর এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের পরিচয় ও তাদের চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের কারণে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংঘর্ষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতা থেকে জানা যায়, একটি হারানো লাগেজের দায়-দায়িত্ব নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধই পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। প্রথমে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও পরে তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
স্থানকসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সংঘর্ষের কারণহজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে বিরোধ
সংশ্লিষ্ট পক্ষশাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজন
প্রাথমিক ঘটনাবৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি
বড় সংঘর্ষের সময়শনিবার
আহতের সংখ্যাঅন্তত ১৫ জন
ব্যবহৃত সামগ্রীদেশীয় অস্ত্রশস্ত্র
পুলিশের ভূমিকাসংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
পুলিশের বক্তব্যপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলমান

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘর্ষ-সংক্রান্ত পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংঘর্ষের সূত্রপাত, আহতের সংখ্যা এবং পুলিশের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।