খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:১৬ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোর অটোরিকশাচালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন রিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন একটি নির্জন ধানখেত থেকে নিথর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কিশোরের মুখ ও গলা স্কচটেপ দিয়ে শক্ত করে প্যাঁচানো ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলে।
নিহত কিশোরের নাম মো. আবদুল আহাদ (১৭)। সে চট্টগ্রামের ওসমানিয়া ফ্যাক্টরি এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে দুই বছর আগে আহাদের বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থেকে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে দমে যায়নি; জিলানী নামক এক ব্যক্তির গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চালাত।
আহাদের মামা মো. আজাদ জানান, গতকাল শনিবার রাতে আহাদ যথারীতি রিকশা নিয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু রাত ১টা বেজে গেলেও সে গ্যারেজে না ফেরায় মালিকপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং তার মাকে খবর দেয়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও অটোরিকশাসহ আহাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ দুপুরে স্থানীয় কৃষকরা ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ছিনতাইকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আহাদকে হত্যা করেছে। তার মুখ ও গলা স্কচটেপ দিয়ে এমনভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ছিনতাই করাই ছিল অপরাধীদের মূল উদ্দেশ্য।
| তথ্যের ধরণ | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহতের নাম | মো. আবদুল আহাদ (১৭) |
| পিতার নাম | নুরুল আলম |
| উদ্ধারের স্থান | মুন্সী বাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন ধানখেত, কুতুবপুর, বেগমগঞ্জ |
| শারীরিক অবস্থা | শারীরিক প্রতিবন্ধী |
| হত্যার ধরন | শ্বাসরোধ (মুখ ও গলা স্কচটেপে মোড়ানো) |
| নিখোঁজ হওয়ার সময় | শনিবার দিবাগত রাত ১টা (আনুমানিক) |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে |
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আহাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করায় সাধারণ মানুষ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য