চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর রাসেল (২৮) নামের এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এই একই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজন আরোহী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত রাসেল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম ওরফে শ্যামলের ছেলে বলে জানা গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার বিবরণ ও আহতদের উদ্ধার কার্যপ্রক্রিয়া
পারিবারিক সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ প্রশাসনের সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন দুপুর ২টার দিকে রাসেল তাঁর ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলযোগে সরোজগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের দিকে আসছিলেন। যাত্রাপথে তিনি চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) সদর দপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়।
এই সংঘর্ষের ফলে দুটি মোটরসাইকেলই রাস্তায় ছিটকে পড়ে এবং গুরুতরভাবে জখম হন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীসহ মোট তিনজন। আহত ব্যক্তিরা হলেন—আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের শামীম ওরফে শ্যামলের ছেলে রাসেল (২৮), বনি আমিন (২৫) এবং পিন্টু হোসেন (৩০)। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর রাসেল ও অন্য আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাসেলের মাথায় ও শরীরে অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে শুরু করে। হাসপাতালে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অনতিবিলম্বে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার দিন থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তবে রাসেলের বাবা শামীম ওরফে শ্যামল জানান, তাঁর ছেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রবিবার সকালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
হাসপাতাল ও স্থানীয় থানা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত রাসেলের মরদেহ চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। যুবকের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার এবং পুরো আকুন্দবাড়িয়া গ্রাম জুড়ে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে একই দিন অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় আকুন্দবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাতেই গ্রামের আকুন্দবাড়িয়া সরকারি কবরস্থানে রাসেলের মরদেহ ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) সদর দপ্তরের সামনে ঘটে যাওয়া এই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহত দুজনের শারীরিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
