জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ইনিংস হারে র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তানের পেছনে বাংলাদেশ

হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বড় পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়েও। ইনিংস ও ৮৫ রানের এই পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বশেষ টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের নিচে নেমে এখন অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই হারের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে জিম্বাবুয়ের সংবাদমাধ্যমেও। দেশটির সংবাদপত্র এইচ-মেট্রো শিরোনামে লিখেছে ‘BANGLADEAD!’, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের চরম ব্যর্থতাকেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে। হারারে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে এমন শিরোনাম ক্রিকেট অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং কাগজে-কলমে শক্তিশালী স্কোয়াডের কারণে অনেকেই সফরকারীদের এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাটিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জিম্বাবুয়ে দারুণভাবে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৪১০ রান তুলে ২৭০ রানের বিশাল লিড নেয়। সেই বড় ব্যবধান বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় ইনিংসেও দৃশ্যপট বদলায়নি। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার—কেউই দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে তিন দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় নিশ্চিত হয়। প্রায় ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে হতাশাজনক এক অধ্যায় হয়ে থাকল।

এই পরাজয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আইসিসির টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে। ম্যাচের আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮, যেখানে পাকিস্তানের ছিল ৭৫। হারারের এই হারের পর বাংলাদেশের রেটিং কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩-এ। ফলে পাকিস্তান এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে গেছে এবং বাংলাদেশ নেমে গেছে অষ্টম অবস্থানে।

পরিস্থিতিটি আরও হতাশার, কারণ মাত্র দেড় মাস আগেই নিজেদের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের পর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতির যে আশা তৈরি হয়েছিল, হারারের এই ভরাডুবি তা অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা ছিল ব্যাটিং। দুই ইনিংসেই দায়িত্বশীল জুটি গড়ে উঠেনি, দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে ফেলার মতো ইনিংসও দেখা যায়নি। একই সঙ্গে বোলাররাও প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে ব্যর্থ হন, ফলে স্বাগতিকরা বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়।

আগামী টেস্টগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা, বড় ইনিংস খেলার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্বশীল ক্রিকেট উপহার দেওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে শুধু র‌্যাংকিং নয়, টেস্ট ক্রিকেটে দলের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর