চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘরভিটার মাটি কাটায় পাহাড়ধসে কিশোর নিহত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘরের ভিটার জন্য পাহাড়ের মাটি কাটার সময় পাহাড়ধসে সায়েম চৌধুরী (১৩) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় সোহেল রানা (৮) নামের আরেক শিশু আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ঘেঁড়ামারা বড়থলি এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলটি বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। ওই এলাকার একটি পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিল। ঘর সম্প্রসারণের জন্য পাশের পাহাড় কেটে ভিটা ভরাটের কাজ চলছিল। সেই কাজ চলাকালীন হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সায়েম চৌধুরী অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পর ঘরের পাশে মাটি কাটার কাজে অংশ নেয়। এ সময় আশপাশে কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। আকস্মিকভাবে পাহাড় ধসে পড়লে সায়েম ও শিশু সোহেল রানা মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় প্রথমে শিশু সোহেল রানাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক দশটার দিকে মাটির গভীর থেকে সায়েম চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সায়েম কিছুদিন আগে মায়ের সঙ্গে ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে মিরসরাইয়ে আসে। সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিল এবং অটোরিকশা চালানোসহ রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করত। তার দুই বোন বিবাহিত।

ঘটনার পর সকালে জানাজা শেষে সায়েমের মরদেহ দাফন করা হয়।

হতাহতের তথ্যসংক্ষেপ

নামবয়সঅবস্থাঘটনার বিবরণ
সায়েম চৌধুরী১৩ বছরনিহতপাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে মৃত্যু
সোহেল রানা৮ বছরআহতমাটিচাপা পড়লেও উদ্ধার করা হয়

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার প্রবণতা রয়েছে। বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় এমন কার্যক্রম চললেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।