খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১২:১৮ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা এক সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের মাছ বাজার সংলগ্ন সদর সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
আহত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি তিনি জাতীয় দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’র কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করছেন। হামলার পর তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি কলাপাড়া সদর সড়কের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে ব্যক্তিগত কাজে বসে ছিলেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লালের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন যুবক তাঁর ওপর চড়াও হন। সেখানে প্রথম দফা মারধর করার পর সদর সড়কেই তাঁর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করে চলে যায়।
সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের দাবি, গত ২১ জুন কলাপাড়া শহরের স্লুইজ গেট এলাকায় তাঁর বোনের বাড়িতে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে তিনিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলের এই প্রভাবশালী নেতারা তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এই বিষয়ে ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস জানান, তিনি বর্তমানে বরিশালে অবস্থান করছেন এবং সেখানে এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কলাপাড়ার এই ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একদল মানুষ ষড়যন্ত্র করছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে হামলার ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ। তিনি জানান, পুরো বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক মোয়াজ্জেমকে দেখতে যান এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং তিনি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ঘটনার খোঁজ নিচ্ছেন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য