খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১২:১৩ এএম

নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে একটি নিরীহ কুকুরের গলায় রশি ও ভারী ইট বেঁধে জ্যান্ত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়ার নির্মম ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অবলা প্রাণীর প্রতি এমন চরম নিষ্ঠুরতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ ও প্রাণী অধিকার কর্মীরা। এই চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহিনারা বেগম (৫২) নামে আরও এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই নিয়ে নির্মম এই পশু নির্যাতনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী জেলা শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহিনারা বেগম নরসিংদী সদর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী। আজ রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম মামুন ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পর থেকেই আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে তৎপরতা শুরু করি। ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম এবং ল্যাব ফুটেজ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই অপরাধে শাহিনারা বেগমের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এর আগে, এই পৈশাচিক ঘটনার মূল অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছিল নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ৩৪ ধারায় (পশুসম্পদ ধ্বংস বা নিষ্ঠুরতা সংক্রান্ত অপরাধ) একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুট করেই একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি সেতুর ওপর কয়েকজন ব্যক্তি একটি দেশি কুকুরের গলায় শক্ত রশি বাঁধছে। এরপর সেই রশির অপর প্রান্তে একটি ভারী ইট বেঁধে কুকুরটিকে চিলতে ছটফট করা অবস্থায় সেতু থেকে নিচে প্রবহমান নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় অবলা প্রাণীটির বাঁচার আকুতি ও আর্তনাদ সাধারণ মানুষকে মারাত্মকভাবে ব্যথিত করে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন। বিষয়টি নরসিংদী জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামেন।
সদর মডেল থানার ওসি এ আর এম মামুন আরও যোগ করেন, একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে প্রাণীদের ওপর এমন বর্বরোচিত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই ঘটনার সময় সেতুর ওপর আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল এবং পুরো অপরাধটিতে তাদেরও বিভিন্ন স্তরের ভূমিকা ছিল। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বাকিদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পলাতকদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য