খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক যুবককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত যুবকের রক্তাক্ত দেহ রাস্তার পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই যুবকের নাম শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২)। তিনি দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। শফিকুল একসময় জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালালেও বেশ কিছুদিন ধরে তিনি পুরোদমে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার অন্ধকার নামার কিছুক্ষণ পর লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকার বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা পাশের একটি ডোবায় একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা শফিকুলকে চিনতে পারেন এবং দ্রুত উদ্ধার করে পাশের বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নীলিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। তবে নির্জন ওই রাস্তার পাশে শফিকুলকে ঠিক কারা, কখন এবং কেন এভাবে ছুরিকাঘাত করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কেউ কিছু জানাতে পারেননি।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শফিকুলের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। নিহতের নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার চাচাতো ভাই শফিকুল অত্যন্ত সাধারণ ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। এলাকার কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা বা ঝগড়াঝাঁটি ছিল বলে আমাদের জানা নেই। তিনি অটোরিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে এখন শান্তিতে কৃষিকাজ করতেন। হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শরীরে অসংখ্য গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখেছি আমরা। কারা এমন পৈশাচিক উপায়ে তাঁকে খুন করল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
খবর পেয়ে রাতেই কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের কয়েকটি দল একসঙ্গে মাঠে কাজ করছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য