অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালাতেই দুজনকে ছুরিকাঘাত, নিহত এক

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বোরকা পরিহিত এক রহস্যময় ব্যক্তিসহ তিন দুর্বৃত্তের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে পঙ্কজ শীল নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় তিলক চক্রবর্তী নামের অপর এক যুবক গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের জৌলুর দিঘির পশ্চিম পাড় এলাকার একটি গ্রামীণ সড়কে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেন এবং গণপিটুনি দিয়ে তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেন।

নিহত যুবকের নাম পঙ্কজ শীল (৩৫)। তিনি পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের অন্তর্গত চক্রশালা গ্রামের মিলন শীলের ছেলে। অন্যদিকে এই হামলায় গুরুতর আহত যুবকের নাম তিলক চক্রবর্তী (৩৫)। তিনি একই গ্রামের দুর্গাপদ চক্রবর্তীর ছেলে। তিলক চক্রবর্তী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিলক চক্রবর্তীর বয়ান এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পঙ্কজ ও তিলক স্থানীয় কমলমুন্সীর হাট থেকে হেঁটে নিজেদের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে জৌলুর দিঘির পশ্চিম পাড় সংলগ্ন গ্রামীণ রাস্তার ওপর তারা তিন ব্যক্তিকে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ওই তিনজনের মধ্যে একজন বোরকা পরে নিজের পরিচয় আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গ্রামীণ অন্ধকার রাস্তায় এমন রহস্যজনক বোরকা পরিহিত ব্যক্তিকে দেখে পঙ্কজ ও তিলক কৌতূহলবশত নিজেদের সাথে থাকা টর্চলাইট জ্বালিয়ে তাদের দেখার চেষ্টা করেন।

টর্চলাইটের আলো ফেলতেই ওই অন্ধকার স্থানে অবস্থান করা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পঙ্কজ ও তিলকের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালান। দুর্বৃত্তরা দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এ সময় আক্রান্ত যুবকদের চিৎকার শুনে আশেপাশের ঘরবাড়ি থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এলে আক্রমণকারী তিন ব্যক্তি দ্রুত অন্ধকারের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় অধিবাসীরা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতেই পঙ্কজ শীল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পটিয়া উপজেলার এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার ব্যক্তি এবং আটককৃত সন্দেহভাজনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকব্যক্তির নাম ও পরিচয়বয়সঘটনার সময় ভূমিকা বা বর্তমান অবস্থা
পঙ্কজ শীল৩৫ বছরটর্চলাইট জ্বালিয়ে দেখতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত
তিলক চক্রবর্তী৩৫ বছরছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
আবিদুল ইসলাম৩৫ বছরজড়িত সন্দেহে এলাকাবাসী কর্তৃক আটক ও পুলিশে সোপর্দ

এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে খুনিদের ধরতে চারদিকে তল্লাশি ও ধাওয়া শুরু করেন। ধাওয়া করার একপর্যায়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে জৌলুর দিঘির অদূরে আটক করতে সক্ষম হন তারা। উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় এবং পরবর্তীতে পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবিদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে আটক হওয়া আবিদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।