খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৮:১২ পিএম

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নববধূকে রাস্তা থেকে তুলে পাশের পাটখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার শ্রীখণ্ডী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিমন ইসলাম (২২), একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে শিটু আলম (১৮) এবং সাবিবুর রহমানের ছেলে শিবা রহমান (১৬)। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তার স্বামী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় নববধূটি মায়ের সঙ্গে নিজ বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ইউসুফপুর ইউনিয়নের ওই নববধূ স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়া শেষ করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে অভিযুক্ত তিনজন তার গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে জোর করে রাস্তার পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পরদিন বুধবার ভুক্তভোগীর মা চারঘাট মডেল থানায় গিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আব্দুল মালেক বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেক অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মন্তব্য