খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ২:১৬ পিএম

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক খোলা দরপত্রের মাধ্যমে আমদানিকৃত চালের শেষ চালানটি মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ‘এমভি পুথান-৩৬’ নামের একটি জাহাজ পাঁচ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই চালানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির তৃতীয় প্যাকেজের চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হলো। বন্দর এলাকার সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক আবদুস সোবাহান জানান, শনিবার (২৭ জুন) সকালে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ভৌত পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সব ধরনের শুল্কায়ন ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার (২৮ জুন) বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাল খালাস করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের সাথে এই চাল আমদানির চুক্তি সই হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, মোট আমদানিকৃত চালের একটি বড় অংশ দেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে খালাস করার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে মোট চালের ৪০ শতাংশ খালাস করার দায়িত্ব পায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাকি ৬০ শতাংশ চাল খালাস করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে।
মোংলা বন্দর দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি এই চুক্তির প্রথম চালানের চাল দেশে এসেছিল। কাকতালীয়ভাবে, প্রথম চালানের চাল নিয়ে যে জাহাজটি বন্দরে এসেছিল, শেষ চালানের চালও নিয়ে এসেছে সেই একই জাহাজ—‘এমভি পুথান-৩৬’।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ১০টি জাহাজের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে চুক্তির সব চাল মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বন্দর থেকে খালাস করার পর এই চাল নদীপথে দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্যগুদামে (এলএসডি) পাঠানো হচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এই চাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সব চাল সময়মতো দেশে পৌঁছানোয় সরকারি খাদ্য মজুদে গতি আসবে এবং বণ্টন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
মন্তব্য