খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৪ এএম

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার। সময়ের অবিরাম ধারায় প্রতিটি দিনই নতুন কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় এই দিনটি বিশ্বজুড়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে আছে। কিউবার বিপ্লব থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী কূটনৈতিক স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
১৬ ফেব্রুয়ারির ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো ১৯৫৯ সালের এই দিনে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিডেল কাস্ট্রো-এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ। এটি ছিল লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা। এছাড়া বিজ্ঞানের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের এই দিনটি স্মরণীয়, কারণ এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ডুপন্ট কোম্পানির গবেষণাগারে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম তন্তু নাইলন তৈরি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে বস্ত্রশিল্পে বিপ্লব ঘটায়।
নিচে ১৬ ফেব্রুয়ারির আরও কিছু উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
টেবিল: ইতিহাসের পাতায় ১৬ ফেব্রুয়ারি
| সাল | দেশ/সংস্থা | ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| ১৭০৪ | অবিভক্ত বাংলা | বাংলায় আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার প্রাথমিক প্রচলন শুরু হয়। |
| ১৮০৮ | ফ্রান্স ও স্পেন | নেপোলিয়ন বোনাপোর্টের নেতৃত্বে ফরাসি বাহিনী স্পেন দখল করে। |
| ১৯৪৬ | জাতিসংঘ | সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে। |
| ১৯৭২ | বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর | স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। |
| ১৯৭৪ | পাকিস্তান ও বাংলাদেশ | জুলফিকার আলী ভুট্টো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার স্থগিতের শর্তে বাংলাদেশকে স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন। |
| ১৯৯২ | লেবানন | ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর তৎকালীন মহাসচিব সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি নিহত হন। |
এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন এমন অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশ্বকে ঋণী করে গেছেন। ১৭৩২ সালের এই দিনে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন জন্মগ্রহণ করেন (পুরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী), যিনি আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম পথপ্রদর্শক। অন্যদিকে বাঙালি সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭) এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক রাজিয়া খান (১৯৩৬)-এর অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম পুরোধা নীলুফার ইয়াসমীন-ও ১৯৪৮ সালের এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় এমন কিছু মানুষকে যারা তাদের কর্মের মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানী ১৯৮৪ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। এছাড়া আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দিকপাল মেঘনাদ সাহা ১৯৫৬ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন, যা বিজ্ঞান জগতের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ এনামুল হক এবং নাট্যকার নূরুল মোমেনের প্রয়াণও এই দিনটিকে শোকাতুর করে তোলে।
পরিশেষে বলা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের যেমন বিজ্ঞানের অগ্রগতির কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি মনে করিয়ে দেয় বিপ্লব ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা। এই দিনটি একদিকে যেমন স্বীকৃতির আনন্দ বহন করে, অন্যদিকে বরণীয় ব্যক্তিদের হারানোর বেদনায় ভারাতুর।
মন্তব্য