নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দারা একটি আক্রমণাত্মক বানরের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে মিলন আখন্দ এই আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে ভিন্ন এলাকা থেকে একটি ‘খ্যাপা’ বানর এসে মহল্লায় অবস্থান নেয়। এরপর থেকে এটি নিয়মিতভাবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। বানরটি ঘরবাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, হোটেল এবং বিভিন্ন দোকানে প্রবেশ করে খাবার নিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে স্থানীয়দের আক্রমণ করছে। এর ফলে এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকেই সারাক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বানরটির আক্রমণে গত তিন মাসে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে কাকলী রায় (৩২) জানান, প্রায় দুই মাস আগে তিনি একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বানরটি হঠাৎ লাফিয়ে তার হাতে কামড় দেয়। এতে তার একটি আঙুলের রগ ছিঁড়ে যায় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রগ জোড়া লাগানো হয়। তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে জানান।
নাটোর সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ নার্স পারভিন আক্তার জানান, গত তিন মাসে বানরের আক্রমণে আহত হয়ে অন্তত ১৫ জন টিকা নিয়েছেন। এছাড়া আরও অনেকে বাইরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও টিকা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে বন বিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বানরটিকে ধরার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সফলতা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত জানান, স্থানীয়দের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিচে বানরের আক্রমণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | লালবাজার মহল্লা, নাটোর পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড |
| সময়কাল | প্রায় ৩ মাস |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ৩২ জন |
| টিকা গ্রহণকারী | অন্তত ১৫ জন |
| আক্রমণের ধরন | কামড় ও আচমকা আক্রমণ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা | বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন |
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বানরের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
