খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম

দেশের জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি আগের তুলনায় উচ্চ হারে আদায়ের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। বীমা খাতের উদ্যোক্তাদের আপত্তি ও পুনর্বিবেচনার দাবি সত্ত্বেও প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে নবায়ন ফি পরিশোধের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এফআইডির বীমা-২ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি চিঠিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২’-এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী সর্বশেষ সংশোধিত সরকারি গেজেটে নির্ধারিত সময় ও হার অনুসারে ফি আদায় করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে এর আগে আইডিআরএ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা ও আইনগত মতামত চেয়েছিল। গত ২৬ এপ্রিল পাঠানো এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানতে চায়, ২০২৬ সালের জন্য বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে কত হারে প্রযোজ্য হবে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে এফআইডি।
বীমা খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ এক ধাপে এই ফি আড়াই গুণ বৃদ্ধি পায়। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে বীমা কোম্পানিগুলো।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন হারে ফি কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, কোনো বীমা কোম্পানির বার্ষিক গ্রস প্রিমিয়াম ১০০ কোটি টাকা হলে আগে নিবন্ধন নবায়ন বাবদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ লাখ টাকায়। ফলে অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকার চাপ বহন করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।
নিচে পুরোনো ও নতুন ফি কাঠামোর একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পূর্বের হার | নতুন হার |
|---|---|---|
| প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামে নবায়ন ফি | ১.০০ টাকা | ২.৫০ টাকা |
| বৃদ্ধির পরিমাণ | – | ১.৫০ টাকা |
| বৃদ্ধির হার | – | আড়াই গুণ |
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন ফি বৃদ্ধি বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং খাতের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, বীমা বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে।
অন্যদিকে আইডিআরএ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছে, সংস্থাটিকে নিজস্ব আয়ের মাধ্যমেই সব ধরনের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয় পরিচালনা করতে হয়। বর্তমানে ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগের কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বীমা খাতের উদ্যোক্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে ২০২৬ সালের জন্য নতুন হারেই নিবন্ধন নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে বলে এখন স্পষ্ট হয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
মন্তব্য