সাটুরিয়ায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত অধীর মনিদাস গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (১০) জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অধীর মনিদাস (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১ জুন দুপুরে উপজেলার দড়গ্রাম এলাকার দাসপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত অধীর মনিদাস দড়গ্রাম এলাকার মৃত রাজেন্দ্র মনিদাসের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা দায়ের

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন বেলা আনুমানিক ২টার দিকে ওই শিশুটি তার নিজ বাড়ির পাশে দড়গ্রাম দাসপাড়ার জোরান চন্দ্র মনিদাসের মালিকানাধীন একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। শিশুটি যখন পুকুরে গোসল করার সময় মাথায় শ্যাম্পু লাগাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত অধীর মনিদাস সেখানে অতর্কিতে হামলা চালায়। সে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী শিশুটি আত্মচিৎকার শুরু করে।

শিশুর চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। প্রতিবেশীর উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে ফেলে রেখে অভিযুক্ত অধীর মনিদাস দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ১ জুন রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা নেপাল মনিদাস বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সাটুরিয়া থানা পুলিশ তৎপরতার সাথে রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামি অধীর মনিদাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী

বিষয়ের বিবরণতথ্য
ভুক্তভোগীতৃতীয় শ্রেণীর স্কুলছাত্রী (বয়স: ১০ বছর)
অভিযুক্ত আসামিঅধীর মনিদাস (বয়স: ৫২ বছর), পিতা: মৃত রাজেন্দ্র মনিদাস
ঘটনার স্থানদড়গ্রাম দাসপাড়া, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ (জোরান চন্দ্র মনিদাসের পুকুর)
ঘটনার তারিখ ও সময়১ জুন, বেলা আনুমানিক ২:০০ টা
মামলা দায়েরের সময়১ জুন, রাত
মামলার বাদীনেপাল মনিদাস (ভুক্তভোগী শিশুর পিতা)
আইনি পদক্ষেপআসামিকে গ্রেফতার এবং আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

এই ঘটনার পর দড়গ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তারা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোসারফ হোসেন জানান যে, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ও আসামিকে আইনের আওতায় আনতে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ২ জুন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।