টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে কামরান আহমেদ ওরফে কানন নামে এক উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সন্ধ্যার সময় সখীপুর-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের কচুয়া পুকুরপাড় নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
এই সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারানো তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহত কামরান আহমেদ সখীপুর উপজেলার জিতেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিমের পুত্র। ২০ বছর বয়সী কামরান টাঙ্গাইল শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এই একই দুর্ঘটনায় কামরানের মোটরসাইকেলে থাকা তাঁর ফুফাতো ভাই মো. আশিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিপরীত দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলটির আরোহী শফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি শারীরিক আঘাত পেয়েছেন।
নিচে একটি সুবিন্যস্ত টেবিলের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের অবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ব্যক্তির নাম | বয়স | বর্তমান অবস্থা | প্রাতিষ্ঠানিক বা পারিবারিক পরিচয় |
| কামরান আহমেদ | ২০ বছর | নিহত | পরীক্ষার্থী, টাঙ্গাইল মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজ |
| মো. আশিক | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | নিহত কামরানের ফুফাতো ভাই |
| শফিকুল ইসলাম | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | বিপরীত দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলের আরোহী |
দুর্ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের উদ্ধার কাজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদের দিন বিকেল বেলা কামরান আহমেদ তাঁর ফুফাতো ভাই মো. আশিককে সঙ্গে নিয়ে বাবার মোটরসাইকেলটি নিয়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে ঘুরতে বের হন। তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে সখীপুর-সাগরদীঘি সড়ক ধরে যাওয়ার সময় কচুয়া পুকুরপাড় নামক সুনির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে কামরানদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে দুই মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে পিচঢালা সড়কে গুরুতর জখম হন।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক পর্যায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কামরানকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরানকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক ও শিক্ষকের বক্তব্য
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফা কামাল এই দুর্ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, কামরান নামের ওই তরুণকে যখন হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তখন হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ পথেই তাঁর প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত অপর দুই ব্যক্তি মো. আশিক এবং শফিকুল ইসলামকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
নিহত শিক্ষার্থীর শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ কামরানের মেধার পরিচয় দিয়ে জানান যে, কামরান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাতেও অত্যন্ত ভালো ফলাফল করার ব্যাপারে পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষকদের সবার অনেক বড় আশা ছিল। ঈদের সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার ফলে পরিবার এবং স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
