খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ১:৫১ পিএম
নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনাটি ঘটে। দুর্বৃত্তদের এই অতর্কিত হামলায় ওই যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
Table of Contents
গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম ফারুক হোসেন (২৭)। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেমের ছেলে। পেশাগত জীবনে ফারুক হোসেন একজন রাজমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘটনার प्रत्यक्षদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হাজীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফারুক হোসেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে তিন থেকে চারজনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফারুককে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়তে শুরু করে। হামলাকারীদের ছোড়া গুলির মধ্যে দুটি গুলি সরাসরি ফারুকের শরীরে বিদ্ধ হয়। গুলি লাগার সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারী ব্যক্তিরা দ্রুত অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা ফারুক হোসেনের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ফারুকের শরীরে দুটি গুলি লেগেছে—যার একটি তাঁর কোমরে এবং অন্যটি পায়ে বিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত ও অধিকতর ভালো চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে দেশের রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন।
সংঘটিত এই অপরাধমূলক ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
হাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এই বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফারুকের শরীরে দুটি গুলি লেগেছে। একটি কোমরে ও অন্যটি পায়ে। তাঁর অবস্থা গুরুতর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’ পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তাদের তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য