খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সংঘবদ্ধ একটি চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তপন সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার সদর উপজেলার পৌর বাপ্তা এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে মো. পারভেজ (৩১) এবং কেরানীগঞ্জের স্থানীয় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের ইসহাক বাবুর্চির ছেলে মো. সুমন হোসেন (২২)।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের পূর্ব চরাইল বালুর মাঠ এলাকায় একদল সশস্ত্র অপরাধী ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে—এমন একটি গোপন তথ্য পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে র্যাব-১০-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে পারভেজ ও সুমনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে র্যাব।
আটকের পর তাদের তল্লাশি চালিয়ে দুটি ধারালো ছুরি, একটি তলোয়ার, পাঁচটি চাপাতি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র তারা পথচারী ও বসতবাড়িতে ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে এএসপি তপন সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে কেরানীগঞ্জ এবং ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। কোনো নির্জন স্থানে পথচারীদের গতিরোধ করে কিংবা রাতে সুযোগ বুঝে বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মন্তব্য