খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১২:২ এএম

দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলামকে নিজ থেকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি যদি নিজের থেকে পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁর এমপি পদ বাতিলের পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলাম আর জামায়াতের কোনো সাংগঠনিক পদে বা সাধারণ সদস্যপদে নেই। কাজেই তিনি আর জামায়াতের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হতে পারেন না। এই কারণে তাঁর এমপি পদের বিষয়ে যেসব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে, দলটি তার সবকটি গ্রহণ করবে।
ঘটনার সূত্রপাত, তদন্ত ও দলীয় সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি গাজী মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে গত বুধবার জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তদন্ত কমিটির তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা মোতাবেক গাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সাথে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা জানান, তাঁকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগের পথ বেছে নিতে বলা হলেও তিনি এ বিষয়ে এখনো নিজের সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত দলকে অবহিত করেননি।
সংসদীয় দলের অবস্থান ও আইনি সম্ভাবনা
জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, দলের সংসদীয় কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে মতামত দেননি। বরং সংসদের ভেতর দলকে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া থেকে রক্ষা করতে সকলেই তাঁর বহিষ্কারের পক্ষে অবস্থান নেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল যদি পদত্যাগ না করে পদ টিকিয়ে রাখতে আইনি লড়াইয়ে যান, তবে হয়তো কয়েক মাস বা প্রায় এক বছর পর্যন্ত তিনি এমপি হিসেবে বহাল থাকতে সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি জামায়াতের অন্যান্য দলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে একত্রে বসার সুযোগ পাবেন না।
বিয়ের তারিখ ও নিবন্ধন কেন্দ্রিক বিতর্ক
গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া ভিডিওটিতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন গাজী নজরুল। ভিডিওতে তরুণী, তাঁর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও দাবি করেন যে, গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন যে, বিয়ের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রি ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়নি, বরং তা সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তবে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পাদনকারী কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের এই নিবন্ধন ১৭ জুন নয়, বরং ১৯ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে। কাজী কর্তৃক এই তথ্য প্রকাশের পর বিয়ে ও নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে নতুন করে আইনগত ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে তা নিবন্ধন করার আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান আইনত কার্যকর রয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই জামায়াতে ইসলামী গাজী মো. নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করে।
মন্তব্য