খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১০:৯ পিএম

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘অশালীন কর্মকাণ্ড ও অপকর্মের’ প্রতিবাদ জানিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের এক স্থানীয় কর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিণাগাড়ি গ্রামের দেবাশীর মোড়ে প্রকাশ্যে এই ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ ও পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করা ওই জামায়াত কর্মীর নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৭)। তিনি হরিণাগাড়ি গ্রামের অধিবাসী। দলীয় পদবী সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মনেপ্রাণে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি লালন করতেন এবং দলের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা তথা সংসদ সদস্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের কাছে দলটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে। দলের নিজস্ব তদন্তেও যখন শীর্ষ নেতার ওই অশালীন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আদর্শিক সংকট থেকেই তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এই বিষয়ে নূরনগর ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দেলোয়ার দলের একজন সক্রিয় কর্মী। তবে তিনি নির্দিষ্ট পদে আছেন কি না, তা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত করতে না পারলেও এক কর্মীর মাধ্যমে দেলোয়ারের দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত সোমবার রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক সংবেদনশীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। ভিডিও কেলেঙ্কারির ঘটনাটি সামনে আসার পর জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত দল সরেজমিনে খতিয়ে দেখে কেন্দ্রে প্রতিবেদন জমা দেয়। বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর সংসদ সদস্য পদ থেকে গাজী নজরুলের বাতিলের দাবিতে শ্যামনগরজুড়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নূরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য