খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ এএম

ময়মনসিংহে ছড়িয়ে পড়া উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকা সোহেল মিয়া (২৬) নামের এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা এবং পরবর্তীতে মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ব্যক্তির আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মিলিয়ে উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
নিহত সোহেল মিয়া পেশায় একজন গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগমের ছেলে।
নিখোঁজের ঘটনা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি)
পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সোহেল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনেরা বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে ঘটনার সাত দিন পর বুধবার সকালে নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
দুর্গন্ধ থেকে মাথা ও মরদেহ উদ্ধার
একই দিনে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অম্বিকাগঞ্জ কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের জায়গা নির্ধারণের কাজ করছিলেন কলেজটির শিক্ষক ও কর্মচারীরা। পরিদর্শনের সময় তাঁরা চারপাশে তীব্র ও উৎকট দুর্গন্ধ পান। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁরা খোলা ঘাসের ওপর একটি বিচ্ছিন্ন মানুষের মাথা পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে ঘাসের ওপর থেকে মানবেতর বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্থানটির পাশে থাকা নরম মাটি পর্যবেক্ষণ করে মাটি খুঁড়ে কয়েক ফুট গভীর থেকে মাথাবিহীন দেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারস্থলে পুলিশ দুটি গ্লাভস আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা মরদেহ ও মাথা মাটিতে পুতে রেখেছিল। কিন্তু শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী মাটির নিচ থেকে মাথাটি টেনে বাইরে নিয়ে আসার ফলে চারপাশে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়।
পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও তদন্ত কার্যক্রম
উদ্ধার করা বিচ্ছিন্ন মাথা এবং বডি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে পিবিআই আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে তা সোহেল মিয়ার বলে শনাক্ত করে। পাশাপাশি মরদেহের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানান, স্থান পরিদর্শনের সময় দুর্গন্ধের কারণ অনুসন্ধানে গিয়েই তাঁরা ঘাসের ওপর বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান এবং পুলিশকে অবহিত করেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, পিবিআইয়ের আঙুলের ছাপের প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও মাথা নিখোঁজ সোহেল মিয়ার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাছাড়া নিহতের পরিহিত পোশাক দেখে স্বজনেরাও পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ ও স্বজনদের অভিযোগ
নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ১৬ জুলাই রাতে সোহেলের নিজ ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া গাছ কাটার কাজের কথা বলে সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। এর পর থেকেই সোহেল নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গাছ কাটার মজুরির পাওনা টাকা নিয়ে সোহেলের সাথে তাঁর ভগ্নিপতি সেলিম মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে স্বজনেরা সন্দেহ করছেন। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে সেলিম মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য