খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নতুন মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। চলতি মে মাসের পর এই প্রথম বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেল। সংঘাতের এই সরাসরি প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার চরম শঙ্কা তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা জোরদার হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফেই ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তাহীনতা। গত সোমবার (২০ জুলাই) ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর একটি নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। শুরুতে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, এই পদক্ষেপের কারণে ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যবর্তী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে তারা। যদিও সেই প্রণালিটি একদম অবরুদ্ধ করা হয়নি, কিন্তু হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাধারণত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পাঠাতে সৌদি আরব প্রধানত এই লোহিত সাগরের রুটটিকেই বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রুটটি সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের পুরো চেইন ঝুঁকিতে পড়েছে। আর এই নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তেলের বাজার এভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি এক কূটনৈতিক বোঝাপড়া ও যুদ্ধবিরতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দর অনেকটাই কমেছিল। এমনকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে এসেছিল দাম। তবে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি সেই স্বস্তি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়ার পর সামরিক উত্তাপ আবারও তুঙ্গে ওঠে।
তেলের এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি এখন বিশ্ব অর্থনীতির মূল ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে প্রবলভাবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেলের বাজারে তার প্রভাব পড়ে, যা সাধারণ গাড়িচালকদের পাশাপাশি সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত পরিবহন খরচের ধাক্কা শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে, কারণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে গিয়ে জীবনযাত্রাকে অনেকটাই কঠিন করে তোলে।
মন্তব্য