২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় পুনরায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। উত্তর গাজার আত-তুয়াম এলাকায় অবস্থিত একটি পুলিশ পোস্ট লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। এই হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সূত্র।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তারা ডিউটিরত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহত কিশোরটি ওই সময় পুলিশ পোস্টের পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণ হারায়। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতায় মোট নিহতের সংখ্যা ৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ২৯ জন।
গাজা পুলিশ পরিদপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ সালের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গাজায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা ১০ হাজার সদস্যের এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিচে ২৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত গাজার সর্বশেষ হতাহত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | পরিসংখ্যান/তথ্য |
| ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে মোট নিহিত | ৭২,৭৭৫ জন |
| যুদ্ধবিরতি পরবর্তী নিহত (১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে) | ৮৮৩ জন |
| সর্বশেষ হামলায় নিহতের সংখ্যা | ৬ জন (৫ পুলিশ, ১ কিশোর) |
| গাজা পুলিশ বাহিনীর বর্তমান সদস্য সংখ্যা | প্রায় ১০,০০০ জন |
| সাম্প্রতিক হামলায় আহতের সংখ্যা | ১০ জন (গুরুতর) |
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গাজার এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার একটি অন্যতম প্রধান ও জটিল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গাজা পরিকল্পনা’ সংক্রান্ত আলোচনায় এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে বেসামরিক নিরাপত্তা রক্ষায় এই বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নিরাপত্তা অজুহাতে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রেখে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বর্তমান এই অব্যাহত হামলাগুলো সেই চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। স্থানীয় অধিবাসী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট কোনো উসকানি ছাড়াই জনবহুল এলাকায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেসামরিক জনজীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
