জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৭:২০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে পাবনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদে ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে গতকাল রবিবার রাজপথে নামেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে ‘পাবনা সচেতন নাগরিক সমাজ’ কমিটির ব্যানারে একটি বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পাবনা সচেতন নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন লেয়ন, যুবদল নেতা সজিব সরদার, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম রানা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা তানজিদ আনোয়ার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ করিম তন্ময়, স্থানীয় সাংবাদিক মোবারক বিশ্বাস এবং পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিশিয়াল আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। তিনি নিজ এলাকায় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হয়। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং জমি দখলের মতো অপরাধের সঙ্গেও তিনি জড়িয়ে পড়েছেন।
বক্তাদের মতে, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যক্তির চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির কারণে পুরো পাবনার আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
পাবনার সচেতন জনগণ শুরুর দিকে এই অঞ্চলের এক তরুণ প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় গর্ববোধ করেছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তাঁর নানা বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আজ পুরো শহরের ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ চরম অতিষ্ঠ। বক্তারা অবিলম্বে খালেদ হোসেন পরাগকে প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রীর পদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি পাবনায় তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর যাবতীয় অপকর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একাধিক দাবি সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা।
মন্তব্য