জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের সরকারি প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম। রোববার (২ আগস্ট) উপজেলার গুপ্তেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। খাবার অনুপযোগী ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এই ডিম সরবরাহের খবরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিনের জন্য মোট ২১৮টি সিদ্ধ ডিম পৌঁছে দেন। যথাসময়ে টিফিনের বিরতি হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ফুড ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা আশিকুর রহমান প্রথম শ্রেণির শিশুদের মাঝে ডিম বিতরণ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা খোসা ছাড়াতে গিয়েই বিপত্তিতে পড়ে। ডিমের ভেতর থেকে এক অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শ্রেণিকক্ষে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ডিমের ভেতরের অংশ কালচে ও শক্ত রূপ ধারণ করেছে, আর কিছু ডিমের ভেতরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমেছে। ক্ষতিকর ও পচা বুঝতে পেরে শিশুরা সেগুলো তৎক্ষণাৎ ফেলে দেয়।
শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, “ডিমগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল, যা কোনো মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয়। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সাথে সাথেই আমরা খাবার বিতরণ বন্ধ করে দিই।” তিনি আরও জানান, এবারই প্রথম নয়; এর আগেও অন্তত দুইবার এই একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ে এমন পচা ডিম পাঠিয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে গুপ্তেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জানান, বিষাক্ত ও পচা ডিমের বিষয়টি নজরে আসার পরই ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে তাদের প্রতিনিধিরা এসে বিদ্যালয় থেকে বিতর্কিত ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের দৈনিক পুষ্টির ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী এই ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় ডিমের পাশাপাশি বিস্কুট, পুষ্টিকর বনরুটি, তরল দুধ এবং মৌসুমি ফল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের ফলে সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন খাবার পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিভাবকদের মতে, অবুঝ শিশুরা যদি ভুলবশত এই পচা ডিম খেয়ে ফেলত, তবে বড় ধরনের ফুড পয়জনিং বা শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারত।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি জোরদার করার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য