ভেনিজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার বিভিন্ন স্থানে এখনো আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫২০ জন। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতি উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কার্লোস বোর্হেস জানান, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় কাজ ধীরগতিতে চলছে। কংক্রিটের বড় বড় স্ল্যাব ও ভেঙে পড়া বহুতল ভবনের অংশ সরানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনার পরদিনই একটি ভবন থেকে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ওই সময় নিখোঁজ এক কিশোরের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের পাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এই ধরনের উদ্ধার অভিযানগুলোতে প্রতিটি সফলতা আশার আলো জাগালেও ধ্বংসের মাত্রা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
গত বুধবার সকালে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
রাজধানীর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যায়। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও জনসেবা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্রুত মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ভেনিজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত, কার্যকর ও বৃহৎ পরিসরে সহায়তা পাঠানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একযোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্য