জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে একটি বাড়িতে ঢুকে হামলা ও গুলির ঘটনায় মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোমেন মিয়া ওই এলাকার মৃত ধন মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন—মৃত খালেক মিয়ার ছেলে মোবারক (৬৫), শহীদ মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন (৩০) এবং কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন (৩৭)। তাঁদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকায় ফরিদ গ্রুপ ও মোমেন চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই রোববার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাঁদের অভিযোগ, সকালে ফরিদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোমেন মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মোমেন মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে তিনি মাথা ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত মোমেন মিয়াকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিনিতা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মোমেন মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন তাঁর পালস ও রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোমেন মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য