আগামী ২০২৬ সালের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল ও ক্রিকেটের এক অভূতপূর্ব সমাপতন ঘটতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচ চলবে, ঠিক সেই দিনই জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৯ জুলাই তারিখটি তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে একই সাথে ফুটবল ও ক্রিকেটের উন্মাদনায় পূর্ণ থাকবে।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) আজ বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ জিম্বাবুয়ে সফরের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই সফরে বাংলাদেশ দল একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। সফরের বিস্তারিত সূচি অনুযায়ী, ম্যাচগুলো দুটি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও ভেন্যু
| তারিখ | ম্যাচ | ভেন্যু |
| ২৮ জুন – ২ জুলাই | একমাত্র টেস্ট | হারারে স্পোর্টস ক্লাব |
| ৬ জুলাই | প্রথম ওয়ানডে | হারারে স্পোর্টস ক্লাব |
| ৮ জুলাই | দ্বিতীয় ওয়ানডে | হারারে স্পোর্টস ক্লাব |
| ১১ জুলাই | তৃতীয় ওয়ানডে | হারারে স্পোর্টস ক্লাব |
| ১৫ জুলাই | প্রথম টি-টুয়েন্টি | বুলাওয়ে |
| ১৭ জুলাই | দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি | বুলাওয়ে |
| ১৯ জুলাই | তৃতীয় টি-টুয়েন্টি | বুলাওয়ে |
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। এখন পর্যন্ত দুই দল মোট ২০টি টেস্ট ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় লড়াই হয়েছে সমানে সমান। সর্বশেষ গত বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল।
বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল। সেই সফরে কোনো টেস্ট ম্যাচ ছিল না, তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে স্বাগতিকরা দাপট দেখিয়েছিল। হারারেতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি—উভয় সিরিজই জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। ফলে আসন্ন এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ২০২২ সালের সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পুনর্জাগরণ
চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে অভাবনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। সেই সাফল্যের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটিই হবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেডসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি এক বিবৃতিতে এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপের অসামান্য সাফল্যের পর ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে পেরে তারা আনন্দিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি সব সংস্করণেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উৎসবের উপলক্ষ হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, টাইগারদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবে জিম্বাবুয়ের মাঠে তাদের সাম্প্রতিক আধিপত্য খর্ব করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করা।
