নিলামে ডলার ক্রয় বৃদ্ধি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং টাকার অতিরিক্ত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও নিলামের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করেছে। সর্বশেষ ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট চার কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করাই এই নীতিগত পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডলার কেনার ফলে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য শোষণ করা যায় এবং বিনিময় হারের অস্থিরতা কমে আসে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সর্বশেষ নিলামে প্রতি ডলারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এই দর অনুযায়ী পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে চার কোটি ডলার কেনা হয়। চলতি অর্থবছরে এটি একক কোনো ধাপের উল্লেখযোগ্য ক্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগেও একই অর্থবছরে একাধিক ধাপে ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে নিলাম পদ্ধতি ব্যবহার করছে। মে মাসেই এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার কেনা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় বড় অঙ্কের সমান। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।

নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয়ের সারসংক্ষেপ

সময়কালক্রয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলার)প্রতি ডলারের গড় দরমন্তব্য
সর্বশেষ নিলাম৪ কোটি১২২ টাকা ৭৫ পয়সাপাঁচটি ব্যাংক থেকে ক্রয়
মে মাস (এখন পর্যন্ত)২১ কোটিনির্ধারিত নয়একাধিক ধাপে ক্রয়
চলতি অর্থবছর (মোট)৫৮৮ কোটি ৩৫ লাখগড় পরিবর্তনশীলধারাবাহিক নিলাম প্রক্রিয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত ডলার ক্রয় করে থাকে, যাতে টাকার অতিমূল্যায়ন রোধ করা যায় এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় সেই নীতিরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।