পঁচিশ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রায় ২৫ বছর আগে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালামকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষ্মীয়া গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (বয়স ৪৬) গত ১১ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হন। অভিযানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–৩ এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ সহযোগিতা ছিল বলে জানা যায়। পরে ১২ মে দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষ্মীয়া গ্রামে সোহেল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবুল কালামকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন।

তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ বিভিন্ন জেলায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। জানা যায়, তিনি পরিচয় গোপন করে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তিনি রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারকার্য শেষে ২০১০ সালের ২৪ জুন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত আবুল কালামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে রায়ের পরও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে ছিলেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়কালঘটনা
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরচরলক্ষ্মীয়া গ্রামে সোহেল হত্যাকাণ্ড
২০০১ সালের পরআবুল কালাম আত্মগোপনে চলে যান
তদন্তকালীন সময়বিভিন্ন জেলায় অবস্থান পরিবর্তন করে পলাতক জীবন
বিচার শেষে ২০১০ সালের ২৪ জুনমৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা
দীর্ঘ সময় পরআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক থাকা অব্যাহত
১১ মে রাত ৩টা (সর্বশেষ)ঢাকা থেকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার
১২ মে দুপুরআদালতে সোপর্দ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দীর্ঘ ২৫ বছর পর একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির গ্রেপ্তার স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিচার এড়িয়ে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।