মাথার ওপরেই ঝুলছিল মৃত্যুদণ্ডের দড়ি। তবে নিয়তির কঠোর পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের ছায়া অতিক্রম করে তিন নেতা ফিরলেন জনতার সামনে, কারাগারের অন্ধকার থেকে সরাসরি দেশের উচ্চতম আইনসভায়। বিএনপি ও জামায়াতের এই নেতারা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন, এবং তাদের রাজনৈতিক সফর এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তিন নেতার সংক্ষিপ্ত জীবনকথা ও নির্বাচনী ফলাফল
| নেতা | দলের পরিচয় | গ্রেপ্তারের বিষয় | কারাগারে সময় | মুক্তির তারিখ | নির্বাচনী এলাকা | প্রতীক | ভোটে ব্যবধান |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| লুৎফুজ্জামান বাবর | বিএনপি | ২০০৪ সালের আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা | ১৮ বছর | ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ | নেত্রকোনা | ধানের শীষ | ১,২০,০০০+ |
| আবদুস সালাম পিন্টু | বিএনপি | ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা | ১৭ বছর | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ | গোপালপুর-ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল | ধানের শীষ | ≈ ২,০০,০০০ |
| এটিএম আজহারুল ইসলাম | জামায়াত | মানবতাবিরোধী অপরাধ, মৃত্যুদণ্ড | ২০১২–২০২৫ | ২৮ মে ২০২৫ | রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) | অজানা | বিপুল ভোটে জয়ী |
লুৎফুজ্জামান বাবরের রাজনৈতিক জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তারের পর একদিনের জন্যও তিনি জামিন পাননি। ১৮ বছরের দীর্ঘ কারাজীবন কাটিয়ে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর নেত্রকোনা আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশগ্রহণ করে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন।
আবদুস সালাম পিন্টুও একই ধরনের জীবনযাপন করেছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েও, দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাসের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্ত হন। তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলের স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
এটিএম আজহারুল ইসলামও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়া এই জামায়াত নেতা ২০১২ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলেও, ২০২৫ সালের ২৮ মে তিনি মুক্ত হন। এরপর রংপুর-২ আসনে (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
এই তিন নেতার সংসদে প্রবেশ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি জনগণের ভোটাধিকার প্রমাণের মঞ্চে আসা এই ঘটনা নির্বাচনী রাজনীতির অদম্য শক্তি ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
