জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫১ পিএম

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বসতঘরের পাশে রাখা বালুর বস্তার মধ্যে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বোমা সদৃশ বস্তুর এই আকস্মিক বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন সদস্য গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় পরবর্তীতে দ্রুত তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জের ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার পরপরই বিকট শব্দের ধাক্কায় পুরো দুধলমৌ গ্রাম কেঁপে ওঠে। ঘর ঘেঁষে রাখা বালুর বস্তার ভেতরে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক হঠাৎ ফেটে যায়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এ সময় ঘরের পাশে অবস্থান করা শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা ইতি আক্তার এবং নাতি ফাহিম তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে ঝলসে যান। স্বজনদের আকুতি ও অগ্নিকাণ্ডের শব্দে স্থানীয় অধিবাসীরা আতঙ্কে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
দগ্ধদের যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহ আলমের ছেলে জামাল বলেন:
“ঘরের পাশেই কয়েকটি বালুর বস্তা রাখা ছিল, যার ভেতর লুকিয়ে রাখা বোমাটির হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে মা, বোন ও ভাগিনার গায়ে আগুন ধরে যায়। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তারা প্রাণ বাঁচাতে ঘরের একদম সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে লাফ দেয়। ততক্ষণে তাদের গায়ের জামাকাপড় পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের সঙ্গে কারও এমন কোনো শত্রুতা আছে বলে জানা নেই, আর এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরকই বা এখানে কীভাবে এলো তা-ও আমরা বুঝতে পারছি না।”
বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত নদী থেকে দগ্ধ ৩ জনকে উদ্ধার করেন। তাঁদের প্রাথমিক অবস্থায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন যে আহতদের শরীরের বড় অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। তাঁদের দ্রুত নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় স্থানান্তরিত করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি সামাল দিতে ও তদন্তের উদ্দেশ্যে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি সাময়িকভাবে ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরকের আলামত ও নমুনা আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে।
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান:
ঘটনাটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক উপাদান দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে সংগৃহীত আলামত বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা পরীক্ষা করা হবে।
এ ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, বিস্ফোরকটি সেখানে জমা রাখার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে কোনো অপরাধী চক্রের হাত রয়েছে কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভরপাশা ইউনিয়নজুড়ে বেশ উদ্বেগ ও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য