নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার দ্বারা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তার নিয়োগ প্রদান করেন। শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার নিয়োগ কার্যকর হবে।

এদিকে, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অবসরে গেছেন। এই দিন তার বয়সসীমা অনুযায়ী ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর আইন পেশায় দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তার শিক্ষাজীবনও সমান সমৃদ্ধ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির সংক্ষিপ্ত তথ্য:

বিষয়বিবরণ
নামজুবায়ের রহমান চৌধুরী
পদপ্রধান বিচারপতি (২৬তম)
শপথগ্রহণের তারিখ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শপথগ্রহণের স্থানবঙ্গভবন
রাষ্ট্রপতিমো. সাহাবুদ্দিন
বিদায়ী প্রধান বিচারপতিসৈয়দ রেফাত আহমেদ
হাইকোর্ট বিভাগে যোগদান২০০৩ (অতিরিক্ত), ২০০৫ (স্থায়ী)
আপিল বিভাগে পদোন্নতি১২ আগস্ট ২০২৪
শিক্ষাজীবনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (এলএলবি ও এলএলএম), যুক্তরাজ্য (আন্তর্জাতিক আইন)

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে দেশের বিচার ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তার দীর্ঘ আইনজীবী ও বিচারপতির অভিজ্ঞতা বিচার ব্যবস্থাকে নতুন দিক নির্দেশনা দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।