জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালকের বেপরোয়া গতির কারণে যাত্রীবাহী বাস উল্টে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় নারীসহ আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর ঠিক আধা ঘণ্টা পর উপজেলার একই ইউনিয়নে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মো. ইমন (২০) নামের এক পথচারী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটা ও আটটার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নে পৃথক এই দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী অভিমুখী ‘জোনাকী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কুমিরা ইউনিয়নের ইলিয়াস পেট্রলপাম্প এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় বাসের গতিবেগ ছিল অত্যন্ত বেপরোয়া। তীব্র গতির কারণে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে থাকা সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) সাথে সজোরে ধাক্কা খায় এবং ঢাকামুখী লেনের ওপর উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. সালাউদ্দিন ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে জানান, হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনে তারা মহাসড়কের দিকে ছুটে যান। তারা দেখতে পান, জোনাকী পরিবহনের বাসটি উল্টে পড়ে আছে এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ছাদ ও ইঞ্জিনের মাঝখানের অংশে আটকা পড়ে বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে হাত বাড়ানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের একে একে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের নাম ‘প্রকাশ’ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে এই দুর্ঘটনায় আহত অপর ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন:
রওশন আক্তার (৩৮) ও তাঁর ছোট ভাই মহিউদ্দিন (৩৩)
মোহাম্মদ মান্নান (৩০) ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫)
অর্পিতা সাহা (২০)
আরিফ মো. ইউসুফ (৫১)
আহতদের মধ্যে অর্পিতা সাহা নামের এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর বাবা বাসুদেব সাহা জানান, আজ তাঁর মেয়ের একটি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা ছিল। নোয়াখালীতে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সকালেই সে জোনাকী পরিবহনের বাসে উঠেছিল। কিন্তু পথিমধ্যে এই নির্মম দুর্ঘটনা তাঁর মেয়ের হাত ও পায়ে মারাত্মক জখম সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মণ্ডল দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে। বাসটি মহাসড়কের ওপর উল্টে থাকায় কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে স্বাভাবিক করা হয়। চমেক হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
জোনাকী পরিবহনের বাস দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল আটটার দিকে একই কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন ধরে চট্টগ্রামের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী গাড়ি মো. ইমন (২০) নামের এক পথচারী যুবককে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ইমনের মৃত্যু হয়। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শামীম আলম জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সীতাকুণ্ডের মহাসড়কে চালকদের এই বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতার কারণে বারবার ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ, যা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য