খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর এলাকায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় রাস্তার পাশে দুই শিশুকন্যাকে রেখে চলে গেছেন তাদের মা। যাওয়ার সময় শিশুদের উদ্দেশে তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘থাকো, আমি টাকা নিয়ে আসি।’ কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি আর ফিরে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা পুলিশি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হিলি বন্দরের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই দুটি শিশু একটি অফিসের বারান্দায় বসে কান্নাকাটি করছিল। তাদের অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন শিশুরা জানায়, তাদের মা ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে কোথাও গেছেন এবং যাওয়ার আগে বলেছেন, তিনি টাকা নিয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সকাল ১০টার কিছু আগে তিনি দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানতে চাইলে তারা মায়ের চলে যাওয়ার কথা জানায়। শিশুদের শান্ত করার জন্য তিনি খাবার কিনে দিলেও তারা খেতে রাজি হয়নি এবং মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি হাকিমপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সন্ধান শুরু করা হয়।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা জীবন ঢাকায় থাকেন এবং তিনি মাদকাসক্ত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা পরিবারটির মা শাহনাজ বেগম ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বড় দুই মেয়ে—জিমি ও জান্নাতিকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি শিশুদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি টাকা নিয়ে ফিরে আসবেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, শিশুদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়। তাদের দাদা-দাদি জীবিত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশু দুটিকে নিরাপদে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শাহনাজ বেগমের অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী আইনি ও মানবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য