খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৮:২৭ পিএম

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ফলের চালানের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অন্তত ১৬ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বড় ধরনের স্বর্ণ পাচারের একটি চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান চলছে।
রোববার (১৯ জুলাই) গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং ঢাকা কাস্টমস হাউজের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় কার্গো ভিলেজে বিদেশ থেকে আসা একটি ফলের চালান তল্লাশি করে ক্যারেটের ভেতর অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে থেকেই একটি সম্ভাব্য স্বর্ণ পাচারের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট চালানটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ফলের ক্যারেটের ভেতরে বিশেষভাবে গোপন রাখা স্বর্ণের বারগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ অন্তত ১৬ কেজি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা ফলের চালানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে স্বর্ণ দেশে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা ছিল একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের। তবে চালানটি কোন দেশ থেকে এসেছে, কীভাবে স্বর্ণগুলো ক্যারেটের ভেতরে লুকানো হয়েছিল এবং কারা এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত—এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের প্রকৃত ওজন, বাজারমূল্য এবং শুল্ক ফাঁকির সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চালানের কাগজপত্র, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ চালান পর্যবেক্ষণ ও তল্লাশি চালিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জব্দ হওয়ায় আবারও স্পষ্ট হলো যে, চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও কাস্টমস তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পরে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য