খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫২ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হাফটাইম শো। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা থাকায় গুঞ্জন ওঠে, ম্যাচের মধ্যবর্তী বিরতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। এমন সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবল–বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বিরতি এত দীর্ঘ হলে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও প্রতিযোগিতার ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে।
সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমের বিরতি সর্বোচ্চ ১৭ মিনিটই হবে। অর্থাৎ প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতির তুলনায় মাত্র দুই মিনিট বেশি সময় রাখা হয়েছে, যাতে ফুটবলের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ১৭ মিনিটের মধ্যে ১১ মিনিট বরাদ্দ থাকবে বিশেষ সংগীত পরিবেশনার জন্য। বাকি প্রায় ছয় মিনিট ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন ও অপসারণ, পাশাপাশি মাঠে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি ছিটানোর কাজে। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এবারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে আরও বর্ণাঢ্য করে তুলতে বিরতির সময় মঞ্চে উঠবেন বিশ্বসংগীতের জনপ্রিয় তিন তারকা—শাকিরা, ম্যাডোনা এবং জাস্টিন বিবার। তাদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে রয়েছে।
হাফটাইম শো নিয়ে শুরুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তারকার নাম আলোচনায় এলেও, শেষ পর্যন্ত কারা পরিবেশনায় অংশ নেবেন সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস এবং ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লেসহ আরও কয়েকজন শিল্পীর নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় থাকছেন শাকিরা, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবার।
ফিফা আরও জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালে আগের মতোই হাইড্রেশন ব্রেক বহাল থাকবে। চলমান টুর্নামেন্টে গরম আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতি অর্ধে একটি করে পানি পানের বিরতি রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেই এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে বিনোদন ও ফুটবলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছে ফিফা। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই সংগীত পরিবেশনা সম্পন্ন করে দ্রুত খেলা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শকরা একদিকে বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আবহও অক্ষুণ্ন থাকে।
মন্তব্য