খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন— শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহকারী দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তাদের মধ্যে হাসিবুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এবং তারেক পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আজ রোববার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত দুই ছাত্রদল নেতার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে দেওয়া হলো:
হাসিবুর রহমান: যোগাযোগ সম্পাদক, শাবিপ্রবি ছাত্রদল (শিক্ষাবর্ষ: ২০২১-২২, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)।
তারেক রহমান: সহকারী দপ্তর সম্পাদক, শাবিপ্রবি ছাত্রদল (শিক্ষাবর্ষ: ২০২১-২২, পরিসংখ্যান বিভাগ)।
এর আগে, গতকাল শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে ওই দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। খায়রুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের একজন নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থী। মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এই বিষয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগের বিবরণী থেকে জানা যায়, শাহপরান হলের ডাইনিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাসি-পচা মাছ ও মাংসসহ অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের কথা জানিয়ে সম্প্রতি খায়রুল সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গ্রুপে পোস্ট দেন। এই বিষয় নিয়ে ফেসবুকে একাধিক লেখালেখি হওয়ার জের ধরে গতকাল শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খাইরুলকে একা পেয়ে আটকান হাসিবুর ও তারেক।
খায়রুল অভিযোগ করেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অপরাধে ওই দুজন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা খাইরুলের বুকে লাথি মারেন এবং মাথা ও মুখে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। চিৎকার শুনে আশপাশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত ছুটে এসে খাইরুলকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে জঘন্য এই হামলার বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া শাহপরান হলের প্রভোস্ট ড. ইফতেখার আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্তব্য