রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রধান ফটকের সামনে দুই নারী ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় মো. জুয়েল ও আনোয়ার হোসেন নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব)-২ এর পৃথক যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়, যার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পুলিশ ও র্যাবের পৃথক অভিযান এবং মালামাল জব্দ
ছিনতাইয়ের এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এই অভিযান চলাকালে নূরজাহান রোডের ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত ও জড়িত আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত ২টি ধারালো চাপাতি এবং ১টি মিনি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী নারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা বিভিন্ন মালামাল এবং ৩টি ব্যক্তিগত ব্যাগ উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ প্রশাসন।
অন্য দিকে, র্যাব-২ এর উপপরিচালক (গণমাধ্যম) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের এই আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি মো. জুয়েলকে নারায়ণগঞ্জের আরেকটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আইনি রেকর্ড: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি জুয়েলের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানাসহ দেশের একাধিক থানায় পূর্ববর্তী বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা দায়ের করা রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটানো শেষে গ্রামীণ জনপদ ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে দূরপাল্লার বাসে চড়ে ঢাকার শ্যামলী বাস কাউন্টারে এসে নামেন। সেখান থেকে তারা একটি রিকশা ভাড়া করে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে অবস্থিত তাদের নিজেদের আবাসিক ভবনের সামনে এসে পৌঁছান।
রিকশা থেকে নেমে দুই নারী তাদের বাসার প্রধান ফটক বা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় তাদের মালামাল নামিয়ে দিয়ে রিকশাচালকও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক এই মুহূর্তে গভীর রাতের নীরবতার সুযোগ নিয়ে চাপাতি হাতে এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই সেখানে হাজির হন এবং তার সাথে অপর একজন সহযোগীও যুক্ত হন।
ছিনতাইয়ের মাধ্যম: ধারালো চাপাতি উঁচিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মালামাল লুট করা হয়।
লুণ্ঠিত মালামাল: দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, কাপড়ের ব্যাগসহ সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র।
প্রমাণ: পুরো অপরাধের দৃশ্যটি ওই ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশি কার্যক্রম
সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করার পর এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাপাতি, পিকআপ ভ্যান ও মালামালসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং জব্দকৃত পিকআপ ভ্যানটি অন্য কোনো ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখা হবে। ভুক্তভোগীদের উদ্ধারকৃত মালামাল আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
