খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংকট শনিবারও কাটেনি। নগরীর বেশিরভাগ পাম্পে গ্যাস না থাকায় ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড। আবার কিছু স্টেশনে সরবরাহ মিললেও চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক গতিতে গ্যাস নিতে পারছেন না চালকেরা। ফলে গ্যাস সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে যেমন সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দৈনিক আয় কমে আর্থিক চাপে পড়ছেন সিএনজি ও রাইড শেয়ারিং চালকেরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মগবাজার, তেজগাঁও ও বাংলামোটর এলাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি পাম্পের সামনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো স্টেশনে চালকদের অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে কম চাপের কারণে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই একটি পাম্পে গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য স্টেশনে ছুটছেন। সেখানে গিয়েও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাস থাকলেও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ চলে যাচ্ছে শুধু জ্বালানি সংগ্রহের পেছনে।
সিএনজি ও রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়ের বড় অংশ নির্ভর করে প্রতিদিন কতক্ষণ গাড়ি চালাতে পারছেন তার ওপর। স্বাভাবিক সময়ে একজন চালক দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা বা রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ দিতে পারেন। কিন্তু গ্যাসের জন্য কয়েক ঘণ্টা পাম্পের সামনে আটকে থাকলে সেই সুযোগ কমে যায়। অনেক চালকের ক্ষেত্রে দিনের ট্রিপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। অথচ গাড়ির মালিককে জমা, ঋণের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচের মতো নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু তাদের আয়ের ওপরই পড়ে না; নগর পরিবহন ব্যবস্থাতেও এর চাপ তৈরি হয়। সিএনজিচালিত যানবাহন দীর্ঘ সময় পাম্পে আটকে থাকায় যাত্রী পরিবহন কমে যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদেরও বিকল্প পরিবহন খুঁজতে হয়। কোথাও কোথাও গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি আশপাশের সড়কে যান চলাচলেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
গ্যাস স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত পাম্পে বসে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে একদিকে চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, অন্যদিকে স্টেশন পরিচালনাকারীরাও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন।
স্টেশন কর্তৃপক্ষের মতে, গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম থাকলে পাম্পে যানবাহনের সংখ্যা কমে যায় না; বরং গ্যাসের আশায় চালকেরা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করেন। এতে পাম্পের সামনে ভিড় বাড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও ধীর হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চালক ও গ্যাস স্টেশন কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষই দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে পাম্পে দীর্ঘ সারি কমবে, চালকেরা নিয়মিত ট্রিপ দিতে পারবেন এবং যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাতেও স্বস্তি ফিরবে।
রাজধানীর গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যাতায়াত ব্যবস্থায় সিএনজিচালিত যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু চালক বা পাম্প ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচল এবং নগরীর সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও তার প্রভাব পড়ে। এ কারণে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
মন্তব্য