জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় মাত্র সাত মাস বয়সী নিজের কন্যাসন্তানকে নির্মমভাবে রাস্তায় আছড়ে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত বাবা কবির ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে পুলিশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই বছর আগে লিমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় পেশায় রিকশাচালক কবির ইসলামের। তাঁদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান রাফা মনি কবিতা। তবে কবির দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা ও পারিবারিক নানা কারণে তিনি প্রায়ই স্ত্রী লিমাকে অমানবিক মারধর ও গালিগালাজ করতেন।
ঘটনার দিন, অর্থাৎ গত ১৫ জুলাই লিমা আক্তারের বাবা শারীরিক অসুস্থ থাকায় তিনি সাত মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে তুরাগ থানার বালুরমাঠ হারুন মোল্লার বস্তিতে বাবাকে দেখতে যান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সেখানে হাজির হন কবির ইসলাম। সেখানে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবির ও লিমার মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কবির। তিনি লিমার মায়ের (শিশুর নানি) কোল থেকে হঠাৎ করেই সাত মাসের শিশু রাফা মনিকে ছিনিয়ে নেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কবির শিশুটিকে মাথার ওপরে তুলে শক্ত রাস্তায় সজোরে আছাড় মারেন।
নির্মম এই দৃশ্য দেখে আশপাশের মানুষ ও স্বজনেরা চিৎকার শুরু করেন। গুরুতর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরে মারা যায় নিষ্পাপ শিশুটি।
এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই ১৬ জুলাই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাবা কবির ইসলামকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রথমে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই নিহতের নানি সারমীন আক্তার বাদী হয়ে তুরাগ থানায় জামাই কবিরের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর কবিরকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রোববার তুরাগ থানা পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং আলামত সংগ্রহের জন্য রিমান্ড আবেদন জানায়। শুনানি শেষে বিচারক কবির ইসলামের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ড চলাকালে ঘটনার নেপথ্যের বিশদ তথ্য ও পারিবারিক কলহের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
মন্তব্য