খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

কাস্পিয়ান সাগরে পতাকাবাহী এক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটিতে নিয়োজিত এক নাবিক নিহত হয়েছেন এবং অপর একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। ঘটনাটির পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাগচির দপ্তর থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইউক্রেনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি তুলে দেওয়া হয়।
ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকেও এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে কিয়েভের নিরাপত্তা বাহিনী। জেলেনস্কির দাবি, লক্ষ্যবস্তু বানানো নৌযানগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক সরঞ্জাম পারাপারে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আক্রান্ত জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
ইউক্রেনের মূল গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটির অভিযোগ, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ মনে হলেও এগুলোকে আড়াল করে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক ড্রোন, অস্ত্রশস্ত্র এবং বিভিন্ন যুদ্ধসরঞ্জাম আদান-প্রদান করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (ইরনা) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এক সাধারণ নাবিককে হত্যা করা বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। তেহরান থেকে পুনরায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে ইরান কোনো পক্ষকেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে না।
কাস্পিয়ান সাগরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপথে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এর প্রভাব কেমন পড়বে এবং ইরান পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ব।
মন্তব্য