খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও এর কাঠামোগত ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে শিক্ষকদের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যেই এই নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হবে। এই নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পরই শিক্ষকদের বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলসহ অন্যান্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সিলেটের পিটিআই মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কর্তৃক ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখে এবং উন্নত বিশ্বের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে একটি টেকসই প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের স্কুলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকট দূর করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বন্ধের ব্যাপারে সরকার যে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার দেওয়ার একটি পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে। এটি আশানুরূপ সফল হলে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত করতে একাধিক কাঠামোগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী:
বেসরকারি বিদ্যালয় সুসংগঠিতকরণ: অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে।
চা-বাগানের প্রাথমিক শিক্ষা: সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন চা-বাগান এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। এসব চা-বাগানের পাঠশালাগুলোতে খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনকেও শিক্ষাক্ষেত্রে এই নতুন প্রত্যাশাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য