খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া ও রামু উপজেলায় মোটরসাইকেল শোডাউন এবং কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দুই উপজেলার এই ঘটনাগুলোর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উখিয়ায় অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত কর্মী সমাবেশের জের ধরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিশদ বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্ক এলাকা থেকে শুরু হয় এক ঝটিকা মোটরসাইকেল বহর। বহরটি মহাসড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মিছিলকারীরা দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অংশগ্রহণকারীদের দাবি, তারা রামু উপজেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। যৌথভাবে এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল এবং সদস্য কাওসার সাকিব।
তবে এই শোডাউনের সঠিক সময় ও ভিডিও নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল থেকে রামু এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি ছিল, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পরিষ্কার আকাশ দেখা গেছে। পুলিশের সন্দেহ, এটি পুরোনো কোনো ঘটনার ভিডিও চিত্র হতে পারে, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা ও সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, শোডাউনটি রোববারের সকালেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ শনিবার দুপুরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগের আরও একটি ঝটিকা কর্মী সমাবেশ। এই সমাবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওই দিন বিকেলেই পালংখালী স্টেশন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা উখিয়ায় কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁতারা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।
উখিয়ার ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ। রোববার উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী আহমদের বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে অনেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিকসহ ১১৪ জনকে প্রধান আসামি করে মামলা চূড়ান্ত করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, আটক দুই আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতের সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উখিয়া ও রামুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য