দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু উপসর্গজনিত মৃত্যুর ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম এবং এর উপসর্গে মোট ৮২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৫ জন।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও এখনো উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৭০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৯০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে একদিনে নতুন শনাক্ত ও উপসর্গ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৬০ জন এই রোগে আক্রান্ত বা আক্রান্তের লক্ষণযুক্ত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৪৪২ জনের।
হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা পরিস্থিতির তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, রোগীর চাপ এখনো অনেক বেশি। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৭ জন। তবে এখনো অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা হলে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের প্রবণতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন থাকার এবং শিশুদের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।









