জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকায় একটি বাসার পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মমতাজ (৩০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। লাশের হাতে কামড়ের স্পষ্ট চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির আলামত থাকায় বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া টাইলস মসজিদসংলগ্ন গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন মমতাজ। রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খোলা জায়গায় চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নারীকে নিথর পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের সুরতহাল করার সময় হাতে কামড়ের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া যেখানে লাশটি ফেলে রাখা হয়েছিল, তার পাশেই চটি জুতা পড়ে ছিল এবং মাটি দেখে মনে হয়েছে সেখানে আগে থেকে কোনো হাতাহাতি বা ধস্তাধস্তি হয়েছিল।
নিহতের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে তাঁর পারিবারিক জীবনের নানা জটিলতার তথ্য। একই বাড়ির ভাড়াটিয়া ইমরান জানান, মমতাজ আগে তাঁর স্বামীর সঙ্গে খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গেলে মমতাজ একলা হয়ে পড়েন। পরে তিনি তাঁর বড় বোন খুশি এবং ভগ্নিপতি ইউনুস মিয়ার সঙ্গে টাইলস মসজিদসংলগ্ন গলির এই ভাড়া বাসায় ওঠেন। তবে শনিবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরের দিন সকালে তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে।
নিহতের সৎমা সাহিদা খাতুন জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই নিজের চেয়ে বয়সে ছোট এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন মমতাজ। এ নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। সেই স্বামীও গত চার মাস আগে তাঁকে একা ফেলে রেখে চলে যান। এর মধ্যে মমতাজের বড় বোন ও ভগ্নিপতি পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। ফলে ঘটনার সময় বাসায় একদম একা ছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ থাকায় স্বজনেরা উদ্বেগে ছিলেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, পুরো ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই স্থানটি পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে এবং এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য