খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ২:২৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের ১৩ নম্বর এলাকায় রাতের আঁধারে গোলাগুলির ঘটনায় যুবদল নেতাসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল থানার আওতাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই ঘটনায় অস্ত্রধারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ইউসুফ আলী (৪৫), নালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২) রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ইউসুফ আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বা মোট আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. সুজনের ভাষ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় যুবদল নেতা হাফিজুর রহমানসহ সাত থেকে আটজন ব্যক্তি একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরপর গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে থাকা লোকজনের অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
সুজনের দাবি, হামলার সময় হাফিজুর রহমানের শরীরে দুটি গুলি লাগে। বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর বুকে একটি গুলি লাগে বলেও তিনি জানান। তবে নালাম সরদার ও মনির হোসেন কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তারা হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না, নাকি গোলাগুলির মধ্যে পড়ে আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোলাগুলির পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও তাদের আঘাতের ধরন বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অস্ত্রধারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গোলাগুলির ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে আহতের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। ফলে মোট কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত ও পরবর্তী তথ্য যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, স্থানীয় কোনো দ্বন্দ্ব, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে, হামলায় অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানা যায়নি। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে এ ধরনের গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাতের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার এবং গুলির শব্দ শুধু ঘটনাস্থলেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে আহতের প্রকৃত সংখ্যা, আটক ব্যক্তির পরিচয়, হামলাকারীদের সংখ্যা এবং গোলাগুলির সুনির্দিষ্ট কারণ—এসব বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার পূর্ণ চিত্র।
মন্তব্য