নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের ক্যানটিনে গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. কাউসার নামের আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই নতুন মৃত্যুর ফলে উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সর্বমোট নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার জাতীয় দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
জাতীয় দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমের কাছে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় সর্বমোট ১২ জন ব্যক্তিকে এই বিশেষায়িত হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে পূর্বে শঙ্কর এবং মো. আমির নামের দুই কর্মী মারা যান। আজ সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারানো ৩০ বছর বয়সী কাউসারের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ বা পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
উক্ত ক্যানটিন বিস্ফোরণের ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ, হতাহতদের সংখ্যা এবং হাসপাতালের চিকিৎসাজনিত বর্তমান পরিস্থিতি নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলো:
| দুর্ঘটনার বিবরণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সূচক | সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান |
| বিস্ফোরণ সংঘটিত হওয়ার স্থান | জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড-এর ক্যানটিন, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁও |
| দুর্ঘটনা ঘটার সুনির্দিষ্ট দিন ও সময় | গত বুধবার দুপুর বেলা |
| বিস্ফোরণের প্রাথমিক কারণ | গ্যাস সরবরাহ লাইনের ছিদ্র বা লিকেজ |
| দুর্ঘটনায় দগ্ধ মোট ব্যক্তির সংখ্যা | ১২ জন (সকলেই উক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মরত কর্মী) |
| চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির সংখ্যা | ৩ জন (শঙ্কর, মো. আমির এবং মো. কাউসার) |
| সর্বশেষ মৃত মো. কাউসারের দগ্ধের পরিমাণ | শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ |
| হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা | ৬ জন (যাঁদের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল) |
| বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির সংখ্যা | ৩ জন কর্মী |
আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান চিকিৎসাধীন অন্যান্য আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান যে, হাসপাতালে নিয়ে আসা ১২ জন দগ্ধ কর্মীর মধ্যে যাঁদের শরীরের পুড়ে যাওয়ার বা দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং যাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত ছিল, এমন ছয়জনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র বা ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন দগ্ধ কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত ‘জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’ নামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের দুপুরের খাবারের ক্যানটিনে এই আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। দুপুরের খাবারের সময় গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে নির্গত গ্যাস ক্যানটিনের বদ্ধ কক্ষে জমা হয়ে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্যানটিনের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে কর্মরত ও দুপুরের খাবার খেতে আসা ১২ জন কর্মী গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার বিশেষায়িত দগ্ধ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের প্রাণহানি ঘটল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।
