জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর শুরুতেই অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে এসেছে দারুণ স্বস্তি ও গতিশীলতা। সদ্য বিদায় নেওয়া জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং পথ ধরে দেশে প্রবেশ করেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী বৈদেশিক মুদ্রা। ডলার প্রতি ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা বিনিময় মূল্য হিসাবে স্থানীয় টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই সুখবর পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই উর্ধমুখী ধারা বজায় রয়েছে। নিচে মূল ডেটা তুলে ধরা হলো:
জুলাই ২০২৬-এর রেমিট্যান্স: ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার (৩৫,৪০০ কোটি টাকা)।
জুলাই ২০২৫-এর রেমিট্যান্স: ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি (জুলাই): গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
জুন ২০২৬-এর রেমিট্যান্স: ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট অর্জন: ৩,৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার (ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স)।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট অর্জন: ৩,০৩২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।
অর্থবছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধি: এক বছরে বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭.৩ শতাংশ।
উপাত্ত পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক আগের মাস, অর্থাৎ জুন ২০২৬-এ ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার, যার চেয়েও জুলাইয়ের অর্জন বেশ উজ্জ্বল।
উল্লেখ্য, স্যোমে পার হওয়া ২০২৫-২৬ পুরো অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের হাত ধরে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার দেশে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একক কোনো অর্থবছরে এত বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স আসার কোনো নজির আগে ছিল না। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ কেবল এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, হুন্ডি কিংবা অবৈধ পথে অর্থ আদান-প্রদান রোধে কঠোর তদারকি, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ প্রণোদনার সঠিক প্রয়োগ এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো সেবা সহজ করাই এই অভাবনীয় অর্জনের মূল কারিগর।
চলমান এ প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভকে আরও মজবুত করবে এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য