জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

রাজধানীর বাণিজ্যিক ও অভিজাত এলাকা গুলশানে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহের সাথে যুক্ত এক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে পরিচালিত অভিযানে তাদের তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোটের বিশাল চালান।
আটককৃত অপরাধীরা হলেন—আল-আমিন (২৭) এবং মো. সোহান হোসাইন (২৬)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুজনই দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া টাকার এই অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে জানান, রোববার দুপুরের দিকে গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর আসে যে গুলশান-১ নম্বরের একটি ভবনের সামনে একদল অপরাধী জাল টাকার বড় একটি চালান বেচাকেনা ও সরবরাহের জন্য গোপনে অবস্থান করছে।
তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ের পর গুলশান থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত উক্ত এলাকায় গিয়ে চারদিক ঘিরে ফেলে। পুলিশের শক্ত অবস্থান টের পেয়ে অপরাধীরা পালানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, তবে ধাওয়া করে আল-আমিন ও সোহান হোসাইনকে দ্রুত কব্জায় আনা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি চালিয়ে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের সুনির্দিষ্ট জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনুমান, সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের প্রতারিত করতেই এই বিশাল নোটের চালান বাজারে ছাড়ার পাঁয়তারা চলছিল। সাধারণত বড় উৎসব কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ কেনাকাটার কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করে অপরাধী চক্রটি আসল টাকার ভিড়ে সুকৌশলে নকল নোট চালিয়ে দেয়।
গুলশান থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত জাল নোটগুলোর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় সিন্ডিকেট যুক্ত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে আটককৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়েরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য